আবারো হরমুজ প্রনালি বন্ধ করল ইরান! ভারতের দুটি তেলবাহী জাহাজে এলোপাথাড়ি গুলি! - rnews24

শিরোনাম

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

আবারো হরমুজ প্রনালি বন্ধ করল ইরান! ভারতের দুটি তেলবাহী জাহাজে এলোপাথাড়ি গুলি!



ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দশদিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর শুক্রবার সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেয় ইরান। একদিন না যেতেই আবারো এই প্রণালিটি বন্ধের ঘোষণা দিলো আইআরজিসি । রোববার এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র লে. কর্নেল ইব্রাহিম জুলফিকারি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং এই কৌশলগত জলপথটি এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থাপনায় রয়েছে। 

খাতামুল আম্বিয়ার কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র আরও জোর দিয়ে বলেন: যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের উৎস থেকে গন্তব্যে এবং গন্তব্য থেকে ইরানের উৎসে জাহাজ চলাচলে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালীর অবস্থা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং পূর্বের অবস্থায় বজায় থাকবে। 

এদিকে হরমুজ প্রণালীতে ভারতের তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী। এই হামলার জেরে শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছে জাহাজ দুটি। ভারতীয় জাহাজের উপর এমন হামলার ঘটনায় পরপরই ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি। গোটা ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রালয়। 

এদিকে অজ্ঞাত স্থান থেকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন়, শত্রুদের উপর এবার বিদ্যুৎ গতিতে হামলা চলবে।

শনিবার ইরানের সেনা দিবস উপলক্ষে বিশেষ বার্তা দেন খামেনি। সেখানে তিনি বলেন, “ইরানের নৌবাহিনী শত্রুদের পরাজয় স্বীকার করাতে প্রস্তুত। চরম আঘাত হানতেও প্রস্তুত।” একইসঙ্গে ইরান সরকারের ভূয়সী প্রশংসাও করেন খামেনি।

এর আগে ইরানের রাজধানী তেহরানে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিরোধী এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ইরানের নিবেদিতপ্রাণ কন্যারা’ (ডিভোটেড গার্লস অব ইরান) শীর্ষক এই র‍্যালিতে অংশ নেন হাজার হাজার নারী ও তরুণী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে সরকারপন্থীদের এই ধরনের বিক্ষোভ এখন প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারী নারীরা হাতে বন্দুক ও জাতীয় পতাকা নিয়ে রাজপথে স্লোগান দিচ্ছেন। তারা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের কঠোর অবস্থানের জানান দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে আগামী বুধবারের (২৯ এপ্রিল) মধ্যে ইরানের সাথে যুদ্ধ বন্ধের দীর্ঘমেয়াদী কোনো চুক্তি না হলে তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াবেন না। 

এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, চুক্তি না হলে আবারও বোমাবর্ষণ শুরু করতে পারে মার্কিন বাহিনী। রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে চুক্তি হোক বা না হোক, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ বহাল থাকবে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ এবং ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবির প্রেক্ষাপটে তেহরান এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী দফার পরোক্ষ আলোচনায় রাজি হয়নি।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অতিরিক্ত দাবিগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে—এটি ইরানের একটি মৌলিক শর্ত।অন্যথায়, দীর্ঘসূত্রতা ও ফলহীন আলোচনার মাধ্যমে সময় নষ্ট করতে ইরান আগ্রহী নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তাসনিম আরও জানায়, এই অবস্থান পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। 

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোজা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের প্রশ্নই আসে না। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ভূখণ্ড যেমন তাদের কাছে পবিত্র, দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও ঠিক ততটাই গুরুত্ব বহন করে। ওয়াশিংটন বা অন্য কোথাও এই সম্পদ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা কখনোই আলোচনার টেবিলে ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হবে না বলে স্পষ্ট করেছের ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এই মুখপাত্র।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages