সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে প্রবেশ করতে শুরু করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমাদের বাহিনী রাজধানী দামেস্কে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এদিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ রাজধানী দামেস্ক ছেড়ে পালিয়েছেন। রোববার সকালে সিনিয়র দুই সেনা কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাশার আল আসাদ দামেস্ক ছাড়লেও কোথায় গেছেন, সেটা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, একটি ব্যক্তিগত বিমান দামেস্ক বিমানবন্দর ছেড়ে গেছে। বিমানটিতে সম্ভবত আসাদ রয়েছেন। বিমানটি ছাড়ার সময় সেখানে সরকারী সেনা উপস্থিত ছিল। । রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোমস দখলের পর বিদ্রোহী যোদ্ধারা দামেস্কে ঢুকে পড়েছে। এ সময় আসাদ বাহিনীর কোন চিহ্ন ছিল না। হাজার হাজার মানুষ গাড়িতে করে এবং পায়ে হেঁটে দামেস্কের প্রধান চত্বরে জড়ো হয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। এদিকে সিরিয়ায় বাশার সরকারকে সহযোগিতা করতে আসা সামরিক কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে ইরান। কুদস ফোর্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা সিরিয়া থেকে প্রতিবেশী ইরাক ও লেবাননে চলে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
আরব বসন্ত' নামে পরিচিত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জেরে দুইহাজার এগারো শালে সিরিয়ায় আসাদবিরোধী আন্দোলন শুরুর পর থেকে আসাদ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের সবচেয়ে বড় মিত্র শিয়াপন্থি বাশার আল আসাদ। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, এতদিন সিরিয়ার স্থলপথ দিয়েই হিজবুল্লাহর কাছে ইরানের অস্ত্র পৌঁছাতো। আসাদ সরকারের পতন হলে যুদ্ধে হিজবুল্লার পরাযয় এক প্রকার নিচ্ছিত বলা যায় । কারন বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক সাহায্য ছাড়া হিজবুল্লা ইসরাইলের সাথে যুদ্ধে টিকতে পারবেনা । সিরিয়ার বিদ্রোহীরা যুক্তরাষ্ট্র , ইসরাইল ও তুরস্কো সমর্থিত ।যদি বিদ্রোহীরা সিরিয়া দখলে নিয়ে নেয় তাহলে ইরান সিরিয়ার স্থল ও আকাশ পথ ব্যাবহার করে লেবা ননে হিজবুল্লার কাছে অস্ত্র গলাবারুদ দিতে পারবেনা । ফলে হিজবুল্লার সাথে ইসরাইলের ষাইট দিনের যুদ্ধ বিরতির পর যদি ইসরাইল লেবা ননে হামলা করে সেক্ষেত্রে হামাসের মতো অস্ত্র গোলাবারুদের অভাবে কোন ঠাসা হয়ে পরবে হিজবুল্লাহ ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন