চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনজীবীদের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গণে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের মধ্যে এক আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন সাংবাদিক, আইনজীবীসহ অন্তত দশ জন। এছাড়া ইসকন সমর্থকরা আদালতের কেন্দ্রীয় মসজিদে হামলা চালিয়ে মসজিদের জানালার কাচ এবং আইনজীবীদের তিনটি প্রাইভেটকার ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এর আগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।
এদিকে চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর অনুসারীদের সংঘর্ষে সাইফুল ইসলাম আলিফ নামে এক আইনজীবী নিহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস।একই সঙ্গে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান। এসময় প্রধান উপদেষ্টা মানুষকে শান্ত থাকার এবং যেকোনো অপ্রীতিকর কাজে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সব এলাকাসহ বন্দর শহরের নিরাপত্তা জোরদারে আইনপ্রয়গ কারী সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির পেছনে দেশের ভেতরে-বাইরে থেকে ইন্ধন থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এর আগে তিনি শার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, 'ইসকন সমর্থকদের এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে দেশের বাইরের ইন্ধন থাকতে পারে। এ ছাড়া, দেশের ভেতরে বিভিন্ন পার্টি আছে—তাদেরও ইন্ধন থাকতে পারে। এমনকি যাদেরকে ব্যান (নিষিদ্ধ) করে দেওয়া হয়েছে, তাদেরও কিছুটা ইন্ধন থাকতে পারে। তবে কারও ইন্ধন পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতিমধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দশ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার ও জামিন বাতিলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়।
এতে বলা হয়, তাকে আটকের পর বাংলাদেশের চরমপন্থী গ্রুপগুলো হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপরও হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও হিন্দু এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাঙচুর এবং মন্দিরে হামলার মতো ঘটনাও ঘটছে বাংলাদেশে।
বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় অপরাধীরা যেখানে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, সেখানে একজন ধর্মীয় নেতা এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে যখন কথা বলেছে তার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতারে ভারতের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার উল্লেখ করেছে যে শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে নির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতার করার পর থেকে তার গ্রেফতারকে কিছু মহল ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে। বাংলাদেশ সরকার বলতে চায়, এই ধরনের ভিত্তিহীন বিবৃতি শুধু সত্যকে বিকৃত করে না বরং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়ার চেতনার পরিপন্থি।
এর আগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আটকের বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ চেয়ে এবার বিবৃতি দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস ইসকন ।
গতকাল নিজেদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে টুইট করে ইসকন জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ইসকনের যুক্ত থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং অত্যন্ত আপত্তিজনক। টুইটে বলা হয়, ইসকন ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে যেন তারা অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এই বিষয়টি স্পষ্ট করে যে আমরা একটি শান্তিপ্রিয় ভক্তি আন্দোলন। তারা ইসকন নেতা চৈতন্য কৃষ্ণ দাসকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধও জানায়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন