চলতি বছরই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে বলে দাবি করছেন ইউক্রেনের সাবেক সামরিক কমান্ডার ভ্যালারি জালুঝনি। তিনি বলেন, রাশিয়ার মিত্র দেশগুলোর ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত ।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ইউক্রেনের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক এ সামরিক কমান্ডার । তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা ও চীনা সমরাস্ত্র যুক্ত রয়েছে।
ইউক্রেনের সামনে ফ্রন্টলাইনে রয়েছে উত্তর কোরিয়ার সেনারা। ইতিমধ্যেই ইউক্রেনে ইরানি শাহেদি ড্রোনগুলো নির্লজ্জভাবে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে। এদিকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধটি এখন ‘বৈশ্বিক’ যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে। এ অবস্থায় পশ্চিমা দেশগুলোতে হামলা করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে নতুন প্রজন্মের একটি মধ্যম-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পরীক্ষামূলক হামলার পর এই মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পুতিন। এটি পরীক্ষার পর পশ্চিমা দেশগুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, পশ্চিমারা যদি তাদের সরবরাহ করা অস্ত্র ইউক্রেনের মাধ্যমে রাশিয়ার ভূখণ্ডে আঘাত হানতে ব্যবহার করে, তবে রাশিয়া পাল্টা হামলা চালাবে।
পুতিন জানান, নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ওরেশনিকের গতি ম্যাক টেইন প্রায় ২.৫ থেক ৩ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড । এই গতি ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা একে কার্যত অনাক্রমণীয় করে তুলেছে। তিনি বলেন, আধুনিক কোনো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম নয়।রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ওরেশনিকের পাল্লা ৩,০০০-৫,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমের মতে, এটি কপুস্তিন ইয়ার রেঞ্জ থেকে নিক্ষেপ করা হয়, যা দনিপ্রো থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রে তিন থেকে ছয়টি পৃথকভাবে নিয়ন্ত্রিত ওয়ারহেড থাকতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞ ইগর কোরোচেঙ্কো বলেন, ইউক্রেনে ব্যবহৃত ওয়ারহেডগুলো প্রচলিত ছিল। তবে এটি পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘সমসাময়িক রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকৌশলের এক অনন্য সৃষ্টি’ বলে তিনি মন্তব্য করেন। ১৯৮৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ৫০০-৫,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। তবে ২০১৯ সালে দুই পক্ষই চুক্তি থেকে সরে আসে। পুতিন জানিয়েছেন, রাশিয়া পরবর্তী সময়ে মধ্যম ও স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
ওরেশনিকের মতো নতুন প্রজন্মের অস্ত্র ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশকে হুমকির মধ্যে ফেলতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন